মহিলা কলেজের ভর্তির চূড়ান্ত তালিকায় ৬ ছাত্র !

যথাযথ নিয়ম মেনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করা হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তির চূড়ান্ত তালিকায় ৬ ছেলে শিক্ষার্থীর নাম দেখানো হয়েছে। ২ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে শূন্য ৪১ আসনে ৪১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে দেখানো হয়। এই তালিকায় ৬ জন ছেলের নাম দেখে হতবাক হয়ে যান মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা। ওই ছয় ছেলে শিক্ষার্থী হলেন- আবদুল আলীম, মো. সজল হোসেন, ফরহাদ আলম, মো. রাসেল হোসাইন, মো. হৃদয় খান ও সেলিম মাহমুদ।

তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যথাযথ নিয়ম মেনেই তারা ফরম পূরণ করেছেন। সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এস এম জাকির হোসাইন জানান, ছেলে শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়া সম্ভব না। তাছাড়া তারা এবার অন্য কলেজেও ভর্তির সুযোগ হারাচ্ছেন। ভর্তির জন্য তাদের আগামী বছরের অপেক্ষা করতে হবে। সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার জন্য গত ১১ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সময় বেধে দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ওই ছয় শিক্ষার্থী সরকারি সাদত কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ করে। মেধার ভিত্তিতে সরকারি সা’দত কলেজের কোটা পূরণ হওয়ায় তারা ওই কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি।

এদিকে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের ৫০ আসনের বিপরীতে মাত্র নয়জন মেয়ে শিক্ষার্থী প্রথম দফায় ভর্তি হন। আরও ৪১ আসন শূন্য থাকে। দ্বিতীয় দফায় শূন্য আসন পূরণের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিলিজ স্লিপে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়। তখন প্রথমবার ভর্তির সুযোগ না পাওয়া ওই ছয় ছেলে শিক্ষার্থী রিলিজ স্লিপে ভর্তি হওয়ার জন্য সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজসহ আরও দুটি কলেজকে চয়েজ দিয়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করেন। ২ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে শূন্য ৪১ আসনে ৪১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে দেখানো হয়। এই তালিকায় ছয়জন ছেলের নাম দেখে হতবাক হয়ে যান মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা।

সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রমজান আলী জানান, ভর্তির চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পরে তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে লজ্জা পেয়ে চলে যান। মো. রাসেল হোসাইন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইনে আবেদনের সময় মহিলা কলেজের নামে ক্লিক করার পর আমাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ওয়েবসাইটে ওই ধরনের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের আবেদন গ্রহণ হতো না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ত্রু টির কারণে আমরা এক বছর পিছিয়ে গেলাম। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শ্রেণির ভর্তির নিবন্ধন কমিটির সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক আলী জাফর চৌধুরী বলেন, অনলাইনে আবেদনে ছয় ছেলে শিক্ষার্থী ভুল করেছেন। তারা মহিলা কলেজ চয়েজ দিয়েছেন। হয়তো তাদের না বোঝার কারণে এমনটা হয়েছে।