পুতিনের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বৈঠক আজ !

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আজ। ইস্তান্বুলে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এ বৈঠকে টার্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন ছাড়াও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনা হবে। সিরিয়ার ইদলিব ও লেবাননের শান্তি আলোচনাও স্থান পাবে আলোচিত ওই বৈঠকে। এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম হুররিয়াত ডেইলি নিউজ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে টার্কস্ট্রিম প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তুরস্ক সফর করছেন।

হুররিয়াত ডেইলি নিউজ জানায়, গ্যাস পাইপ লাইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ, সাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজেন্ডার ভিউবিক, আজারবাইজানের জ্বালানি মন্ত্রী পারভিজ শাহবাজব ও হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ‍সিজ্জারতো উপস্থিত থাকবেন। তুরস্কের সাথে প্রাকৃতির গ্যাস সরবরাহের চুক্তি করেছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, তুরস্কে ৩ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস রফতানি করবে রাশিয়া। ২০২০ সাল নাগাদ দুই দেশের বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে বলে প্রত্যাশা তাদের। ওই গ্যাসলাইন দিয়ে ৩১.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। যার মধ্যে তুরস্কের গ্রাহকদের জন্য প্রথম লাইকে ১৫.৭৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নির্মিত গ্যাস পাইপলাইনটির নাম টার্কস্ট্রিম। পাইপলাইনের যে অংশটি স্থলভাগে রয়েছে সে অংশটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে গ্যাজপ্রম।

পাইপলাইনটি চালু হওয়ায় ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের জন্য সরবরাহ পথ হিসেবে ইউক্রেনের ওপর নির্ভরতা কমবে রাশিয়ার। তুরস্ক রুশ প্রতিষ্ঠানটিকে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের অনুমতি দিতে বেশ সময় নিয়েছে। বোটাস ও গ্যাজপ্রমের মধ্যে মূল্য ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হচ্ছিল না, যা অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিকে বিলম্বিত করেছে। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের জন্য সরবরাহ পথ হিসেবে ইউক্রেনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে সম্প্রতি জার্মানির সঙ্গেও পাইপলাইন বিষয়ে সমঝোতা করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল দুই দেশের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের জন্য নির্ধারিত নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হন।

ওই পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ার ভাইবর্গ থেকে জার্মানির গ্রিফসওয়াল্ডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে। নর্ড স্ট্রিম ২ বাস্তবায়নে রুশ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমকেই সমর্থন করেছে জার্মানি। টার্কস্ট্রিম প্রকল্পের কারণে দু’দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছে দুই দেশ। এর আগে এরদোগান টার্কস্ট্রিম প্রকল্পের অফশোর সেকশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এক টুইটার বার্তায় বলেছিলেন, ‘টার্কস্ট্রিম প্রকল্পটা আমাদের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের অঞ্চলে জ্বালানি ভূ-রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক আনুপাতিক প্রকল্প। আমরা আমাদের রাশিয়ার বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই প্রকল্পের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’। পুতিন টার্কস্টিম প্রকল্পকে রাশিয়া-তুরস্কের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের অগ্রগতিশীল উন্নয়নের প্রতীক এবং দু’দেশের মধ্যকার ‘বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি’ বলে বর্ণনা করেন।